দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তির নীতিমালা ২০২৫

আজকের কৃষি সংবাদ

দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তির নীতিমালা ২০২৫ — সম্পূর্ণ তথ্যসংকলন- ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ প্রকাশ করেছে। “দাখিল ৮ম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৫” শিরোনামে প্রকাশিত এই নীতিমালা অনুযায়ী বৃত্তি পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম এই নীতিমালা অনুসরণে পরিচালিত হবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও সীমা

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত প্রতিটি মাদরাসা থেকে চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শতকরা ৪০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজনে এই অংশগ্রহণের সংখ্যার পুনঃনির্ধারণ করতে পারবে।

কোনো শিক্ষার্থী একবার একটি মাদরাসা থেকে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলে অন্য কোনো মাদরাসা থেকে অংশ নিতে পারবে না। সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরে বদলি হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান প্রচলিত নিয়মে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে থাকলে ছাড়পত্র ও বদলি আদেশপত্র দাখিল সাপেক্ষে অংশগ্রহণের অনুমতি পাবে।

বহিরাগত পরীক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসা প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল বাতিল করা হবে।

পরীক্ষা কাঠামো ও মূল্যায়ন

প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণমান ১০০ এবং সময় ৩ ঘণ্টা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় থাকবে।

বাংলা ও ইংরেজি: পূর্ণমান (৫০+৫০)=১০০, সময় (১.৫ ঘন্টা + ১.৫ ঘন্টা)=৩ ঘন্টা। একই দিনে আলাদা কোডে পরীক্ষা হবে এবং উত্তরপত্র আলাদা হবে।

গণিত ও বিজ্ঞান: পূর্ণমান (৭০+৩০)=১০০, সময় (২ ঘন্টা ১০ মিনিট + ৫০ মিনিট)=৩ ঘন্টা। একই দিনে আলাদা কোডে পরীক্ষা হবে এবং উত্তরপত্র আলাদা হবে।

প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত দাখিল অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ওপর ভিত্তি করে। বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম শতকরা ৪০ নম্বর প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক।

বৃত্তির ধরন ও কোটা

দাখিল অষ্টম শ্রেণি বৃত্তি দুই ধরনের হবে —

১) ট্যালেন্টপুল বৃত্তি

২) সাধারণ বৃত্তি

সব ধরনের বৃত্তির ৫০% শিক্ষার্থী (ছাত্র) এবং ৫০% ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। কোনো কোটা পূরণ না হলে বিপরীত কোটা থেকে পূরণ করা হবে।

ট্যালেন্টপুল বৃত্তি বণ্টননীতি

ট্যালেন্টপুল বৃত্তি উপজেলা ওয়ারি (উপজেলা পর্যায়ে) এবং ওয়ার্ড ওয়ারি (সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে) প্রদান করা হবে। প্রতিটি উপজেলা বা ওয়ার্ডে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ছাত্র ও ছাত্রীকে মেধাক্রম অনুসারে সমান হারে বণ্টন করা হবে। যদি ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সংখ্যা বিজোড় হয়, তবে সর্বশেষ বৃত্তিটি লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনা ছাড়াই সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে।

কোনো উপজেলা বা ওয়ার্ডে যোগ্য শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে জেলা কোটা থেকে পরবর্তী মেধাক্রম অনুসারে ট্যালেন্টপুল সম্পূরক বৃত্তি দেওয়া হবে এবং তা সম্পূরক তালিকায় প্রকাশিত হবে।

সাধারণ বৃত্তি বণ্টননীতি

সাধারণ বৃত্তি উপজেলা ওয়ারি এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড ওয়ারি প্রদান করা হবে। কোনো উপজেলায় মেয়েদের কোটা শূন্য থাকলে তা ছেলেদের দ্বারা পূরণ করা হবে এবং বিপরীত ঘটনাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই ক্ষেত্রে তালিকা মূল তালিকাতেই প্রকাশিত হবে। তবে কোনো উপজেলা বা ওয়ার্ডে উপযুক্ত প্রার্থী না থাকলে জেলার মেধাক্রম অনুযায়ী সম্পূরক তালিকায় সাধারণ সম্পূরক বৃত্তি প্রদান করা হবে।

সমান নম্বরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারক্রম

একাধিক শিক্ষার্থী একই মোট নম্বর পেলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এই ক্রমে—

১) কুরআন মাজিদ ও আকাইদ-ফিকহ

২) আরবি (১ম ও ২য় পত্র)

৩) বাংলা ও ইংরেজি

৪) গণিত ও বিজ্ঞান

সব বিষয়ে নম্বর সমান থাকলে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।

প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ফি

জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ও নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বৃত্তি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, প্রশ্নপ্রণয়ন, খাতা মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত এবং প্রকাশসহ সকল আনুষঙ্গিক কাজ সম্পাদন করবে। পরীক্ষার্থীপ্রতি বোর্ড ফি ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ২০০ টাকা নির্ধারিত। কেন্দ্র ফি থেকে প্রশাসনিক ও পর্যবেক্ষক ব্যয় নির্বাহ করা হবে। প্রয়োজনে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ফি পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *