আর কিছুদিন পরেই এইচএসসি পরীক্ষা, এখনই জেনে নাও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার বাকি আর অল্প কিছু দিন, সুতরাং এখন আমি তোমাদের এমন কিছু কথা বলব বা এমন কিছু টেকনিক জানব যা তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতেই জেনে নিই এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ, ১০১৫ সালের এইচএসি পরীক্ষা কবে নাগাদ হতে পারে – এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৩০ জুন থেকে ২০২৫ থেকে।
সর্বাপরি শেষ সময়ে এসে প্রস্তুতি নিতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শেষের মুহূর্তে এসে যখন প্রস্তুতি কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে তখন শুরু কোন জায়গা থেকে করবে সেই বিষয়টাই অনেকে বুঝতে পারে না। এইচএসসি পরীক্ষার সবশেষ সময়ে কেমন পরিকল্পনা বা কেমন ভাবে পড়াশুনা করলে তোমাদের প্রস্তুতি নিতে সহজ হবে, সেজন্য এমন কিছু সুন্দর পরিকল্পনা ব্যবস্থা শিখে নাও যা তোমার স সহজ চিন্তাভাবনার সাথে তোমার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারবে।
প্রস্ততি খুব দ্রুত শুরু করে দাও
আমরা সবসময় চিন্তা করি পরীক্ষার একটু আগে শুরু করলেই শেস করে ফেলতে পারব। কিন্তু এমনটা করলে পড়া কখনোই শেষ করতে পারবা না এবং তাতে দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায়। এমনটা যেন ঘটে তাই দ্রুত সবার আগেই শুরু করতে হবে প্রস্তুতি যা তোমাকে রাখবে প্রশান্ত এবং স্থির । প্রতিদিন একটু ভোরে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন, কারণ সেইসময় আমাদের ব্রেইন সতেজ এবং ঠান্ডা থাকে। পড়া কখনোই দুপুর, বিকেল এবং রাতের জন্য ফেলে রাখবানা। কারণ দুপুর, বিকেল এবং রাতের দিকে দিকে তুমি আরও বেশি ক্লান্ত থাকতে পারো যার কারনে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়তে পার। রিভিশন দেয়ার জন্য রুটিন তৈরি করে নিতে পারো তাহলে প্রতিদিন ঠিক একটি নির্দিষ্ট সময়ে পড়া শুরু ও শেষ করা করতে সুবিধা হবে।
পড়ার জন্য সুন্দর একটা পরিকল্পনা সাজাও
পড়ার জন্য আমাদের একটি সুন্দর পরিকল্পনা সাজাতে হবে। পরিকল্পনা করাটা হয়ত তোমার কাছে সময় নস্ট বা সময়সাপেক্ষ মনে হবে কিন্তু একটি পরিকল্পনা এবং পূর্ণাঙ্গ রিভিশন থাকা প্রকৃতপক্ষে তোমার পড়াকে সহজ করে দিবে এবং তোমার সময়কে বাঁচিয়ে দেবে। প্রতিদিন কতটুকু পড়া রিভাইস দিবা সেটা ভাবার জন্য একটুও সময় নষ্ট করা লাগবে না। এটা তোমার পড়া কতটুকু আগালো সেটা যাচাই বাছাই করারও একটা উপায়। সময়সূচী যতটা সম্ভব তোমার মতো করে বানিয়ে নাও। একটি মানুষের নিজের সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল বুঝে, তুমি কখন পড়লে তোমার পড়া তাড়াতাড়ি মুখস্ত হয় কখন পড়লে মনে থাকার প্রবনতা বেশি হয় সে ব্যাপারে তুমিই সবচেয়ে ভাল বুঝবা। সো প্রচলিত কিছু ভাল যেমন নিয়মকানুন রয়েছে এর সাথে সাথে এমন কিছু অভ্যাস আছে যা একান্ত তোমার, তেমন করে রুটিনটা সাজাও।
তোমার হাতের লেখা–
তোমার হাতের লেখা কেমন বা তুমি কিভাবে লেখ সেটা তুমি নিজেই জানো। যদি তুমি মনে করো তোমার লেখা ভাল কিংবা তোমার লেখার ধরণ ভাল হয় তাহলে তো খুবই ভাল যদিও পরীক্ষার মার্কের মধ্যে এটা তেমন একটা প্রভাব পড়ে না। তাও চেষ্টা করবে সুন্দর এবং ক্লিয়ার করে লেখার। আর যদি তোমার লেখার ধরণ মোটামুটি বা খারাপ হয়, তবে এখনই হাতের লেখা ভালো করার চেষ্টা করো।
কঠিন বিষয়গুলো একে একে বাছাই কর
তুমি যে গ্রুপ অথবা যেই সাবজেক্টেই পরীক্ষা দাও না কেন, কিছু বিষয় কারো কাছে একটু কঠিন লাগতে পারে। এই কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে কি করা উচিত? আমার তে ঐসব বিষয়গুলো একটু চেষ্টা করে সমাধান করা উচিত কারণ কঠিন বিষয়ে তো আর ফেল করা যাবে না।
পড়ার মধ্যে বিরতি দাও
একটানা কোন কাজ বা পড়া কোনটাই ভাল না। কারন তাতে লাভের চাইতে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। আমাদের ইন্দ্রিয় কতটা নিতে পারবে তার একটা মাপ আছে যখন তুমি যতটা নিতে পারবা তার চেয়ে বেশি দিয়ে দিবা তখন পড়া নিজের মধ্যে আর থাকবে না। কোন একটি সাবজেক্ট একটানা ১০ ঘণ্টা পড়ার চাইতে সেই পড়াটা ধিরে ধিরে ১০ দিনে এক ঘণ্টা করে পড়া তারচেয়ে বেশি উপকারী। যেকোন পড়া এবং তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে বিরতি প্রয়োজন বিরতিহীন ভাবে পড়লে কার্যকর নাও হতে পারে। আর আপনি যখন একটু বিরতি দিয়ে পড়বেন তখন তা মনে থাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে যদি বিরতিহীন ভাবে পড়েন তখন তা মনে না থাকার সম্ভাবনা থাকে। এই পদ্ধতি একটি সুন্দর এবং সমৃদ্ধ পদ্ধতি।
পড়ো এবং লেখো–
আমাদের পড়ার সাথে সাথে অবশ্যই লেখার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পড়া মুখস্ত করার ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপুর্ন একটা টেকনিক। তাই অবশ্যই প্রতিটি বিষয়ই মনোযোগ সহকারে পড়ার পর তা নিজে নিজে লেখবে। এতে করে যেমন তোমার হাতের লেখা সুন্দর হবে তেমন দ্রুত হবে।
শেষ সময়ে এসে নিজেকেই নিজের শিক্ষক ভাবো
নিজে পড়বা আবার নিজে শিক্ষকতা করবা। একটা অধ্যায় পড়বা, পড়ার পর তুমি তা নিজেকে নিজে ধরবা। এবং নিজেকে যাচাই করবা প্রশ্নের উত্তর সঠিক হচ্ছে কিনা। পরে তা আবার বইয়ের সাথে মিলাও। এটা খুবই একটি সুন্দর কৌশল। এটা আমাদের স্মরণশক্তিকে সতেজ ও উদ্দীপিত করতে সহায়তা করতে পারে। এই টেকনিকে যদি তুমি অন্য কাউকে পেয়ে যাও তাহলে তো আরো ভাল, তার মাধ্যমে তুমি তোমাকে যাচাই করতে পারবা।
এবার জেনে নেওয়া যাক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা :
আনসার শিট বা উত্তর পত্র (যেটা হল থেকে দেয়) ও খাতার সৌন্দর্যবর্ধন : বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় খাতার সৌন্দর্জ এর দিকে মনোযোগ দিয়ে থাকে। এবং এমনটা করা যুক্তিযুক্ত। পরীক্ষার উত্তরপত্রে মার্জিন আঁকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, খাতার সকল পৃষ্ঠায় মার্জিন আঁকা খুবই জরুরী এবং অবশ্যই মনে রাখতে হবে আমাদের উত্তরপত্রের কভার পেজ মার্জিন আকা যাবে না । তারপর ঠিক মার্জিন বরাবর লেখা আরম্ভ করতে হবে, উত্তরপত্রের ডান দিক পর্যন্ত লিখতে হবে। তবে ডানে কোন একটি শব্দ যদি কমপ্লিট করতে না পারো তাহলে তা লেখার দরকার নেই।
* প্রতিটি উত্তর লেখার পর সমাপ্তিসূচক চিহ্ন দিতে হবে। যেমন- দাঁড়ি,কমা, সেমিকোলন চিহ্ন, প্রশ্নবোধাক চিহ্ন, আশ্চর্য বোধক ইত্যাদি সকল চিন্হ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।
* আমাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর লেখার পর তা যদি পাতার দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত লেখা হয়ে থাকে তারজন্য অপর উত্তরের ক্ষেত্রে পরের পৃষ্ঠায় লিখতে হবে। কোন প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হলে, পরবর্তী উত্তর মিনিমাম এক ইঞ্চি পরিমান ফাঁকা রেখে তারপর নিচ থেকে লেখা শুরু করতে হবে।
* তোমাদের যদি সম্ভব হয় তাহলে পয়েন্ট, প্রশ্নের নম্বর এবং উদ্ধৃতির নিচে নীল কালি দিয়ে আন্ডার লাইন করে হাইলাইট করতে হবে
* যখন কোন পৃষ্ঠা লেখা শেষ হবে তখন পৃষ্ঠার নিচে “চলমান পৃষ্ঠা” লিখতে হবে। খাতার কোথাও অথবা মার্জিন করতে লাল বা সবুজ কালি ব্যবহার করবা না। এটা ব্যবহার করলে উত্তর বাতিল হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি পাতার একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৃষ্ঠা নম্বর লিখে দিলে ভাল। খসড়া করার জন্য উত্তর পত্রের শেষের দিকের কোন পেইজ ব্যবহার করতে পার বা নির্দিষ্ট কোন স্থানে করতে পার, এবং যখন কাজ শেষ হয়ে যাবে তখন জাস্ট বুঝার জন্য একটা টান দিয়ে তা কেটে দিবা।
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর করণীয় :
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর করণীয় কিছু কাজ আছে।
প্রশ্নপত্র যখন হাতে পাবা তখন বিসমিল্লাহ বলে তা একবার ঠান্ডা মাথায় পড়ে নিবা । প্রশ্নটি পড়ে চিন্তা করো এখানে তোমার কাছে কী উত্তর চেয়েছে। এবং তার পর তোমার ব্রেনে সংরক্ষিত ভান্ডার থেকে তা জানার চেস্টা কর। তারপর যেগুলা কমন পড়েছে সেগুলা থেকে লেখার চেষ্টা কর।
উত্তরে যত বেশি পয়েন্ট লিখবা তত ভাল । এটা উত্তর দেখার ক্ষেত্রে সহজ এবং সুন্দর হতে পারে। লেখা একটু বেশি লেখার চেষ্টা করবা এবং তা অবশ্যই মানসম্মত হতে হবে। নাহয় উল্টো মার্ক কেটে যাবে।



