গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
১৪৩৭ – মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কার মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে, যা তথ্য বিস্তারে বিপ্লব ঘটায়।
১৫৫১ – ১৫৫১ সালে তুরস্কের ওসমানীয় নৌবাহিনী উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ত্রিপোলি দখল করে। মাল্টার নাইটদের কাছ থেকে এই দখলদারি ছিল ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সামুদ্রিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ। এটি ওসমানীয়দের সামরিক কৌশল, নৌবহরের সক্ষমতা এবং আফ্রিকা-ইউরোপ সংযোগস্থলে তাদের আধিপত্য স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। ত্রিপোলির এই বিজয় ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সামুদ্রিক উত্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
১৫৮৫ – রানি এলিজাবেথ প্রথম নেদারল্যান্ডসের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার সূচনা করে।
১৭৬২ – ১৭৬২ সালে সেভেন ইয়ার্স ওয়ারের সময় ইংল্যান্ডের নৌবাহিনী স্পেনের উপনিবেশ হাভানা দখল করে নেয়। এটি ছিল ব্রিটিশদের জন্য একটি কৌশলগত ও সামরিক সাফল্য, যার মাধ্যমে তারা ক্যারিবীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এই দখলের ফলে ব্রিটিশরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ লাভ করে।
১৭৯০ – ১৭৯০ সালে সুইডেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা তাদের মধ্যে চলমান দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটায়। এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় পক্ষই পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে সম্মত হয় এবং সীমান্ত স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
১৮২৫ – মাইকেল ফ্যারাডে অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল তৈরি করতে সক্ষম হন – জ্বালানি বিজ্ঞানে বিপ্লব।
১৮৮৫ – জাপান জং প্রতিরোধক রং প্যাটেন্ট করে, শিল্পবিপ্লবে আরও এক ধাপ অগ্রগতি।
১৯০০ – ১৯০০ সালে মার্কিন নৌ-সেনা ও মিত্রবাহিনী চীনের রাজধানী পিকিং (বর্তমানে বেইজিং) দখল করে নেয়, যার মাধ্যমে বক্সার বিদ্রোহের অবসান ঘটে। বিদ্রোহ দমনে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি, জাপানসহ আট জাতির জোট বাহিনী চীনে সামরিক অভিযান চালায়। পিকিং দখলের মাধ্যমে চীনকে একটি অসম চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, যার ফলে বিদেশি শক্তির প্রভাব আরও বেড়ে যায়।
১৯৩১ – কুমিল্লার ছাত্রী ইলা সেন ও মীরা দেবী ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যা করে বিপ্লবী ইতিহাসে স্থান করে নেন।
১৯৪১ – রুজভেল্ট ও চার্চিল স্বাক্ষর করেন ঐতিহাসিক আটলান্টিক চার্টার- শান্তির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
১৯৪৫ – ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে, জাপান রাশিয়ার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে, যা বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সোভিয়েত বাহিনী মানচুরিয়া ও কুরিল দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণ চালালে জাপান সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে।
২০০৮ – অলিম্পিকে রেবেকা অ্যাডলিংটন ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে অলিম্পিক রেকর্ড ভাঙেন, বিশ্ববাসী অবাক।
উল্লেখযোগ্য জন্মদিন
১২৫৭ – সম্রাট হানাজোনো (জন্ম ১২৯৭) ছিলেন জাপানের ৯৫তম সম্রাট, যিনি ১৩০৮ থেকে ১৩১৮ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তিনি ইম্পেরিয়াল রাজবংশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং পরবর্তীতে বৌদ্ধ সন্ন্যাসে জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর শাসনকাল ছিল রাজনৈতিক দ্বন্দ্বপূর্ণ হলেও সাংস্কৃতিকভাবে উল্লেখযোগ্য।
১৭৭৭ – হান্স ক্রিশ্চিয়ান ওরস্টেড ছিলেন একজন ড্যানিশ পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ, যিনি তড়িৎ ও চুম্বকত্বের মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করে পদার্থবিজ্ঞানে নতুন দ্বার উন্মোচন করেন। ১৮২০ সালে তাঁর এই আবিষ্কার ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম তত্ত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে। বিজ্ঞান জগতে এটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।
১৮৬৭ – ১৮৬৭ সালে জন্মগ্রহণকারী জন গ্যালসওয়ার্দি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার, যিনি ১৯৩২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লেখা “The Forsyte Saga” অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত। সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক মূল্যবোধ তাঁর সাহিত্যের মূল উপজীব্য।
১৮৯৭ – লাবণ্য প্রভা ঘোষ ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ গান্ধীবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজকর্মী, যিনি বাংলার ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয়। তিনি মানভূম জেলার বাংলা ভাষা আন্দোলনে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন। নারীর অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।
১৯৪২ – শহীদ কাদরী (জন্ম ১৯৪২) ছিলেন আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। নাগরিক জীবন, অস্তিত্বের সংকট, এবং স্বদেশপ্রেম তাঁর কবিতার মূল প্রতিপাদ্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ “উত্তরের খুঁজে”, “কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই” প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পেয়েছেন একাধিক সাহিত্য পুরস্কার।
১৯৪৫ – স্টিভ মার্টিন, মার্কিন কৌতুক অভিনেতা ও সংগীতজ্ঞ।
১৯৬২ – রমিজ রাজা, পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার।
১৯৬4 – পল্লব কীর্তনিয়া, বাংলার গায়ক, গীতিকার ও নির্মাতা।
১৯৮৩ – সুনিধি চৌহান ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার, যিনি শক্তিশালী কণ্ঠ ও বৈচিত্র্যময় গায়কির জন্য পরিচিত। তিনি অল্প বয়সেই বলিউডে পা রাখেন এবং “শিলা কি জওয়ানি”, “কমলি”সহ বহু হিট গান উপহার দেন। তার গানে আধুনিকতা ও আবেগের চমৎকার মিশ্রণ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য মৃত্যু
১৪৩৩ – পর্তুগালের রাজা প্রথম জোহান, যিনি পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের ভিত্তি গড়েন।
১৯৩৫ – ফ্রেদেরিক জোলিও-ক্যুরি, ফরাসি নোবেলজয়ী পদার্থবিদ।
১৯৫৬ – বের্টল্ট ব্রেখট, নাট্যকার ও কবি হিসেবে জার্মান সাহিত্যকে নতুন দিশা দেন।



