মানুষখেকো জমিদার বাড়ি – ইয়াসিন আরাফাত।। রাহাতদের গ্রামের পাশেই পুরনো আমলের এক জমিদার বাড়ী আছে যদিও বর্তমানে বাড়ীটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, দেশ ভাগের আগেই জমিদার পরিবার ভারত চলে গিয়েছিল। গ্রামের লোকজন এটাকে আগুন বাড়ী বলে ডাকে, গভির রাতে নাকি মাঝে মাঝেই আগুনের ফুলকি দেখা যায় এই বাড়ীতে। লোকমুখে যার অদ্ভুত অদ্ভুত ভয়ংকর ঘটনাও প্রচলিত আছে, এমনকি একদিন রাহাতও বলছিলো তার চাচাতো ভাই হঠাৎ একবার নিখোজ হয়ে যায়, অনেক খোজাখুজির পরেও তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি , ৩ দিন পর তার লাশ জমিদার বাড়ীর পিছনের খাল পাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে লাশ তুলে এনে চেয়ারম্যান এবং এলাকার মুরব্বিরা লাশ তাড়াতাড়ি দাফন করার ব্যবস্থা করেন, কারন তাকে কোন অসৎ আত্মা মেরে ফেলেছে বলে। এমনকি এই খালের পানিতে কিছুদিন পর পর মানবদেহের বিভিন্ন অংশ ভেসে যেতে দেখে গ্রামের মানুষজন। এসব কথা ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমরা কালকে থেকে শুরু হওয়া গৃস্মের ছুটি রাহাতদের গ্রামেই কাটাবো। ভূত প্রেতে তেমন একটা বিশ্বাস না থাকলেও প্রচুর গোয়েন্দা গল্প এবং গোয়েন্দা ছবি দেখার কারনে এসব বিষয়ে আমার কিউরিসিটি ছিল একটু বেশিই।
রাহাতকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানাতেই সে আগামিকাল রাতের ট্রেনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বলল এবং আমাদের বন্ধু নয়ন এবং আরমানকেও জানাতে বলল। অবশ্য যে কারনে আমি রূপনগর (রাহাতের গ্রামের নাম) যেতে চাচ্ছি সেটা জানলে আরমান খুশি হলেও নয়ন যেতে চাইবেনা, কারন নয়ন ভূত প্রেত এই ধরনের জিনিশে ভয় পায়। আরমান আর নয়নকে কল দিয়ে পরের দিন রাত ১২ টার ট্রেনে রূপনগর যাবো বলে প্রস্তুত থাকতে বললাম। যথা সময়ে আমি, রাহাত, নয়ন, আরমানসহ আমরা রূপনগরের উদ্দেশ্যে রাত ১২ টার ট্রেনে রওনা হলাম। ট্রেন চলছে তার আপন গতিতে, আরমান আর রাহাত মোবাইলে মাথা গুঁজে আছে আর নয়ন ঘুমাচ্ছে, আমি বাহিরের প্রকৃতি দেখছি আর ভাবছি, আসলেও কি এমন কিছু সম্ভব, একটা পরিত্যাক্ত বাড়ীতে কেউ খুন হয়ে যাবে, গভির রাতে আগুন জ্বলবে, কিভাবে সম্ভভ এটা? এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল করিনি। যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন দেখি সকাল ৯ টা ১০ মিনিট। ট্রেন রূপনগরের পাশের স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেন থেকে নেমে আমরা রওনা দিলাম রূপনগরের উদ্দেশ্যে, রাহাতদের বাড়ী পৌঁছে দুপুরের খাবার সেরে বিশ্রাম না নিয়ে আমি কাউকে কিছু না জানিয়ে একা বেরিয়ে পড়লাম জমিদার বাড়ীর খোঁজে, অনেকক্ষন খোজাখুজির পরও না পেয়ে স্থানীয় এক মুরুব্বিকে জিজ্ঞেস করতেই জমিদার বাড়ীর পথ দেখিয়ে দিলেন তিনি। একটু সামনে হাঁটতেই পিছন থেকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন “কোথায় যাচ্ছো বাবা, ওখানে কেন যাচ্ছো? ওটা একটা ভয়ংকর জায়গা” ওনার কথা শুনে কিছুটা ভয় লাগলেও আমি সতর্কতার সাথে এগিয়ে গেলাম, ৩/৪ মিনিট হাটার পরে আমি জমিদার বাড়ীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, কি অদ্ভুত একটা গা ছমছমে ভাব, চিন্তা করলাম একটু হেটে দেখবো চারপাশ, কিন্তু বাড়ীটার পরিবেশ দেখে ভয় হচ্ছিলো আশেপাশে কোন মানুষ নেই নিরিবিলি একটা পরিবেশ, সবদিকে কেমন একটা ছাড়া ছাড়া অবস্থা। এগুলো চিন্তা করতে করতে হাতের ডান পাশের সরু রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চললাম জমিদার বাড়ীর পিছন দিকটা দেখার জন্য, একটু সামনে গিয়ে দেখলাম ঘন গাছগাছলা জঙ্গলে মোড়ানো একটা জায়গা সেদিক দিয়ে হাটার সময় হঠাৎ একটু কিছুর সাথে পা ধাক্কা খেয়ে চোখ আটকে গেল, তাকিয়ে দেখি মৃত মানুষের মাথার খুলি, এই দৃশ্য দেখে একটু সাবধানে এগিয়ে গেলাম ভিতরের দিকে, তার এক কিবা দুই ফুটের দুরুত্বে আবার কিছু একটা আবিস্কার করলাম, শেতশেতে কাদার ভিতরে কি জানি একটা দেখা যাচ্ছে, হাত দিয়ে ধরার সাহস হলো না, তাই পাশ থেকে একটা লাঠি নিয়ে উল্টিয়ে দেখি আস্ত একটা মানুষের কঙ্কাল, এটা দেখে আর আমি ভিতরে যাওয়ার সাহস করলাম না, ফিরে যাবো ভেবে পিছনের দিক ঘুরতেই একটা অনাকাঙ্খিত আওয়াজ কানে আসলো, বাচ্ছা ছেলে মেয়েদের কান্নাকাটি ফুঁপিয়ে কাঁদলে যেমন একটা আওয়াজ আসে ঠিক তেমন। এসব কিছু দেখে আমি আরও ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ওই বাড়ী ত্যাগ করি এবং রাহাতের বাড়ির দিকে রওনা দিই। বাড়ীতে গিয়ে এসব বিষয়ে তাদের সাথে কিছুই শেয়ার করিনাই। আমাদের মধ্যে আরমান একটু সাহসী এবং গোয়েন্দা, থ্রিলার এবং ভৌতিক বিষয়গুলোর প্রতি আগ্রহী এবং ভালো বুঝেও, তাই বিষয়টা আরমানকেই প্রথমে জানাই। দুজনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে রাতেই আমরা চারজন জমিদার বাড়ী যাবো এবং বিষয়টা উদঘাটনের চেষ্টা করব। আমরা আগেই জানতাম রাহাতের বাবা মা এতে রাজি হবে না। তাই মিথ্যা বলেই বেরিয়ে পড়লাম-
পরবর্তী পোস্টে ২য় পর্ব দেওয়া হবে


