ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের একটি প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়। এটা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটাকে ইংরেজিতে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (Dhaka Central University) বলে। এবং এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজকে ভেঙ্গে সাত কলেজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। চলতি বছর মানে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ইউজিসির কর্মকর্তাদের তথ্যানুসারে খুব শীঘ্রই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে। এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিক কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই সাতটি সরকারি কলেজকে অধিভুক্ত করে।
এই কার্যক্রমে এক প্রকার বাধা হয়ে দাঁড়ায় সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা, ২০২৫ সালের জানুয়ারীর দিকে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবি জোর দিয়ে জানায়। জানুয়ারির শেষের দিকে তারা অনশন ও সড়ক অবরোধ (মহাখালী ব্লকেড) শুরু করে, বিশেষত এয়ারপোর্ট সড়ক, মহাখালী-গুলশান সড়ক ধারাবাহিক কয়েকদিন বন্ধ রাখে।
এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আপত্তি
নতুন নামে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিতে ৫টি বিষয় উল্লেখ করে-
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এ – দুটি নামের মধ্যে মাত্র একটি শব্দের তফাত রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করে ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
গ্রামীণ পর্যায়ে জটিলতা : বিশেষ করে গ্রামা ঞ্চলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে পার্থক্য করা কঠিন হবে, যে কোনটা কোন বিশ্ববিদ্যালয় যা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে।
নামের ভূল প্রয়োগ বা প্রতারণার ঝুঁকি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিভিন্ন জায়গায় টিউশন জালিয়াতি বা প্রতারণার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এটা ৭ কলজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা : চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
বহি:বিশ্বে সমস্যা : বিদেশি শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সুনাম এবং মান ক্ষুণ্ন হতে পারে।
নতুন এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল
ইউজিসি এবং কমিটির সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মডেলটি হবে ঢাকার পুরানো এবং ঐতিহাসিক সাতটি সরকারি কলেজের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেই। বর্তমানে ৭ কলেজের মধ্যে যেই পাঁচ কলেজ যেমন, ঢাকা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে এইচএসসি রয়েছে যেখানে যেই শিক্ষার্থীরা পাঠদান করছে তারা সেভাবেই থাকবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোর জায়গা এবং সময় শেয়ার করবে। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যারা হাইব্রিড মডেলে চলে, সাত কলেজ তেমনই হবে। যেমন ইউকের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এনইউএস) এর মতো হবে সাত কলেজের এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদালয়ে ৪০ শতাংশ ক্লাস হবে অনলাইনে, বাকি ৬০ শতাংশ হবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে। প্রাথমিক ভাবে ৪ টি স্কুল নিয়ে শুরু হবে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়, সেগুলা হচ্ছে বিজ্ঞান অনুষদের জন্য- স্কুল অব সায়েন্সেস, মানবিক অনুষদের জন্য- স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ, ব্যবসা অনুষদের জন্য- স্কুল অব বিজনেস এবং আইন অনুষদের জন্য- ল স্কুল।
নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষকরা এ বিষয়ে অধ্যাপক ইলিয়াস বলেন, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো কেমন হতে পারে তা এখনো চুড়ান্ত হয় নি, তাছাড়া কলেজগুলোর অবস্থান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হওয়ায় কিছু শিক্ষার্থীরা ক্লাস বা শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য যাতায়াত একটি সমস্যা হতে পারে।
লোগো কেমন হচ্ছে?
নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো কেমন হবে এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উ্চছাস লক্ষ্য করা গেছে। তারা তাদের বিভিন্ন গ্রুপে তা নিয়ে পুল তৈরি করেছে। সেখানে বিভিন্ন লোগোর সেম্পল দিয়েছে তারা। ইউজিসি থেকে জানা গিয়েছে , ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাবনার পর লোগো তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে লোগোর ডেমো নেওয়া হয়েছে।
একাদিক সূত্র থেকে জানা যায়, এ বছর থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা বাজেট ঘোষণা করা হবে। এই অর্থ থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রুপান্তর চাই আন্দোলনের মো: আব্দুর রহমান জানিয়েছে জরুরি অধ্যাদেশের জন্য কর্মতৎপরতা চলছে। পূর্ব নির্ধারিত আশ্বাস অনুযায়ী সাত কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে ইনিশিয়াল বাজেট ঘোষণা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সমন্বিত মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত হচ্ছে।
ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তথ্য:
২০২৪/২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার এ পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য নতুনদের জন্য, যাদের এডমিশন এর শেষ স্বপ্ন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি,তাদের অনেকের প্রশ্নের উত্তর এখানে পেয়ে যাবেন। ইউজিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে চাই। ভর্তী কার্যক্রমে আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি।
এক্সাম কবে হতে পারে?
উত্তর: এক্সাম হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে জুন – জুলাই, ঈদ এর পরে।
প্রশ্ন: সার্কুলার/বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কিনা?
উ: না,নতুন সার্কুলার এই মাসের মে শেষের দিকে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তবর্তী প্রশাসন গঠন হয়েছে এখন দ্রুত সময়ে দিবে। এবং ঢাকা কেন্দ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রজ্ঞাপনের জন্য এতো দেরি হয়েছে এখন যেহেতু প্রজ্ঞাপন হয়ে গেছে সার্কুলার ও চলে আসবে।
৩.সেকেন্ড টাইম থাকবে কি?
উ: এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বার ভর্তী হওয়ার সম্ভাবনা ৯৮ ভাগ। তথ্যসূত্র : ইউজিসি,
তবে এর বিপরীতে ৩/৫ মার্কস কাটা হতে পারে।
৪. এ বছর সিট সংখ্যা কেমন হবে?
উ: সিট সংখ্যা এ বছর অনেক কমবে।
৫. নেগেটিভ মার্ক থাকবে কি?
উ: হ্যাঁ, এ বছর থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা ( ২৪- ২৫ ) এ নেগেটিভ মার্ক যুক্ত হবে।
৬. আবেদন কি শেষ?
উ: না, নতুন সার্কুলার দেয়া হলে, আবার আবেদনের সুযোগ দেয়া হবে।
৭.এটা কোন টাইপের ভার্সিটি, পাবলিক?
উ: হ্যাঁ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
৮. আমরা কি সাত কলেজ পরিচয় দিব নাকি ঢাকেবিয়ান?
উ: ঢাকেবিয়ান ( DCUIAN)
৯.সিলেবাস কি চেঞ্জ হবে?
উ: সার্কুলার দেয়ার পর বুঝা যাবে। তবে সাবজেক্ট প্যাটার্ন প্রায় সেইম থাকায় বিগত বছরের নিজস্ব ইউনিট+ মানবণ্টন দেখে আপাতত প্রস্তুতি শুরু করতে পারো কালক্ষেপ না করে। দিনশেষে পড়া সেইম।
১০.ভর্তি পরীক্ষার ডেট না দিলে কতদিন সময় হাতে নিয়ে পরা শুরু করতে পারি?
উ: প্রায় এক মাস হাতে নিয়ে শুরু করতে পারো পড়াশুনা।
১১.ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে খরচ কেমন হবে?
উ: ঢাবি সিন্ডিকেট ভেঙ্গে এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তথা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করা হয়েছে, তাই অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই এখানে খরচ হবে।
১২.ঢাকেবি ভর্তি পরীক্ষা সেন্টার কোথায় হবে?
উ: এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ঢাকেবির সব গুলো ক্যাম্পাস যেহেতু ঢাকাতেই সেহেতু ভর্তি পরীক্ষার সেন্টার ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হবে।
১৩. ঢাকেবি ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি?
উ:বিগত বছরে ঢাবি অধিভুক্ত থাকায় বিভাগ পরিবর্তন ছিল না,কিন্তু এবার সতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কারণে,ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে বিভাগ পরিবর্তন এর সুযোগ থাকতে পারে,বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান,সার্কুলার দেয়া হলে বিষয়টি ক্লিয়ার হবে।
১৪.ঢাকেবি তে কি ইন্জিনিয়ারিং + ফার্মেসী + বায়োকেমিস্ট এসব সাবজেক্ট থাকবে কি?
উ: বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী অনুষদ ভিত্তিক সাবজেক্ট সংযোজন হতে পারে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, চূড়ান্ত হলে সার্কুলার এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।



